
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান
সকল প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীন এর জন্য। যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা। সালাত ও সালাম বর্ষিত হউক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও প্রিয় সাহাবীগণের উপর।
দ্বীনী শিক্ষাই আলো। ঐশী শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষই আলোকিত মানুষ। যে শিক্ষা নূর ছড়ায়, মানুষকে আলোকিত করে এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়, তা নবেয়ী শিক্ষা। যা মানুষকে মহান আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির সম্পর্ক স্থাপন ও বান্দার সঙ্গে স্রষ্টার নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে শিক্ষা নবুওয়তের দ্বিপাদার থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীর দিগদিগন্তে নূরের ঝলকে সৃষ্টি করেছে। পাক-ভারতের মাটিও ধন্য হয়েছে সে নূরের রশ্মিতে।
১৮৫৮ সালে আগ্রাসী বৃটিশ যখন ভারতের মাটিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তখন তারা উপমহাদেশ থেকে চিরতরে ইসলাম ও মুসলমানকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। তারা ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচারের মূলে একের পর এক আঘাত হানতে থাকে। হাজার হাজার উলামা-মাশায়েখকে শহীদ করার পাশাপাশি শত শত বছর ধরে চলে আসা দ্বীনী মাদরাসাসমূহের নামে ওয়াকফকৃত যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে উপমহাদেশে ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ও মুসলমানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
জাতির এ ক্রান্তিকালে ইমাম শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী রহ. এর দ্বীনী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একদল আলেম ইসলাম, মুসলমান ও ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা রক্ষার জন্য ১৮৬৬ সালে হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর নেতৃত্বে নতুনভাবে যে দ্বীনী বহুমুখী খেদমতের সূচনা হয় তারই নাম ‘দেওবন্দ আন্দোলন বা কওমী মাদরাসা শিক্ষাপদ্ধতি’। পাক-ভারত-বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এ ধারার অগ্রযাত্রা আজ সুদূর আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশে বিরাজমান। এ সকল দ্বীনী প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে দ্বীন প্রচারের স্বার্থে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহ উপর ভরসা করে, মুসলিম জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।
মহান আসলাফ ও আকাবির এর আদর্শের আলোকে খাঁটি নায়েবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা’ সে ধারারই একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত।
নাম
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা
উপনাম
"গুলশানে আল্লামা শাহ্ আব্দুল মতীন কমপ্লেক্স"
বর্তমান ঠিকানা
৬ নং শহীদ ফারুক সড়ক, পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, ঢাকা- ১২০৪
স্থায়ী ঠিকানা
পাইটি, ডেমরা, ঢাকা
পৃষ্ঠপোষক ও শূরা প্রধান
আরেফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ্ আব্দুল মতীন বিন হুসাইন সাহেব দা.বা.
প্রতিষ্ঠাকাল
৮ই শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী / ২৩ই জুন ২০১৮ ঈসায়ী
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
মাওলানা মুহাম্মাদ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দা.বা.
২০১৮ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এর দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
মাদরাসার মুহতামিম সাহেবসহ অন্যান্য উস্তাদগণের সার্বক্ষণিক নেগরানীতে পরিচালিত মাদরাসাটি মুরব্বিদের দোয়া এবং কিছু নেক আহবাবদের আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় মাত্র ৫ বছরে শিশু শ্রেণী থেকে দাওরায়ে হাদিস তথা মাস্টার্স সমমান পর্যন্ত সকল বিভাগে সাফল্যের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে এক বিরল ইতিহাসের সূচনা করেছে আলহামদুলিল্লাহ !
আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানীতে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক সংলগ্ন পাইটি মৌজায় মনোরম ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে গত ২৯ জুন ২০২২ ঈসায়ী তারিখে ১ একর ৩৩ শতাংশ জায়গা মাদরাসা ও মসজিদের নামে সাবকবলা রেজিস্ট্রি করা হয়। অতঃপর নাম জারী, ভরাট ও বাউন্ডারির কাজ সম্পন্ন হয়। আলহামদুলিল্লাহ।
জমির দলিলের অবিকল নকল
“মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা ও মাসজিদ-এ বাইতুল মতীন (যা ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষা কারিকুলাম অনুসরণে এবং ভারতের বিখ্যাত মনীষী হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুযুর্গ, যুগের হাকীমুল উম্মত, হযরত মাওলানা শাহ্ আব্দুল মতীন বিন হুসামুদ্দীন সাহেব দামাত বারাকাতুহুম-এর দ্বীনী আদর্শ, দ্বীনী ব্যাখ্যা ও নীতিমালার ভিত্তিতে এবং হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ. কৃত কোরআন-সুন্নাহর ব্যাখ্যা তথা হানাফী মাযহাব হেফাযতের নিমিত্তে পরিচালিত।
যাহা কখনো মোতাওয়াল্লী বা অন্য কাহারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি রূপে গণ্য হইবে না ও বংশানুক্রমে তাহার/তাহাদের ওয়ারিশগণের এই সম্পত্তিতে কোনরূপ ওয়ারিশান দাবী বাতিলযোগ্য- এ নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান)”
দামাত বারাকাতুহুম
আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানীতে হযরত মাওলানা শাহ্ আব্দুল মতীন বিন হুসাইন সাহেব দামাত বারাকাতুহুম-এর পৃষ্ঠপোষকতা ও দোয়ায় উনার পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও মোতাওয়াল্লী হিসেবে মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে।
সকল বিভাগের সবগুলো ক্লাসরুম সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
মক্তব, নাযেরা ও হিফজ বিভাগ সম্পূর্ণ সি.সি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।
ছাত্রদের সঠিক তা'লীম-তরবিয়তের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বাদ যোহর আকাবির-আসলাফের কিতাব থেকে তা'লীম।
উন্নত আমল-আখলাক তৈরির লক্ষ্যে প্রতি সোমবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ইসলাহী মজলিস।
প্রতি শিক্ষাবর্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩টি পরীক্ষা নেওয়া হয়। মক্তব, নাযেরা ও হিফজ বিভাগে প্রতি পরীক্ষায় মুমতায নম্বর ৮০% (স্টারমার্ক) পেয়ে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানে উত্তীর্ণ ছাত্রদেরকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
কিতাব বিভাগে মাদরাসা কর্তৃক নির্ধারিত "বিশেষ নম্বর" পেয়ে সামায়িক পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য রয়েছে পরবর্তী পরীক্ষা পর্যন্ত মাদরাসার যাবতীয় খরচ মওকুফ করার আবেদনের বিশেষ সুযোগ। উপরন্তু ১ম স্থান অধিকারীর জন্য রয়েছে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা।
যাবতীয় খরচ মওকুফ করার নির্ধারিত "বিশেষ নম্বর": খুসুসী থেকে নাহবেমীর: ৯৫%, হেদায়াতুন্নাহু থেকে শরহে বেকায়া: ৯০% এবং জালালাইন থেকে তাকমীল: ৮৫%।
খুসুসী থেকে মীযান জামাতের হাফেজ ছাত্রদের ইয়াদ ঠিক রাখার লক্ষ্যে চাঁদের তারিখ অনুযায়ী প্রতিদিন এক পারা করে ইয়াদ করা বাধ্যতামূলক। এবং উস্তাদগণ কর্তৃক প্রতিদিন উক্ত পারার পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক বক্তৃতার ব্যবস্থা।
হস্তলিপি সুন্দর করার লক্ষ্যে প্রতি পরীক্ষায় স্বতন্ত্র ১০০ নম্বরের পরীক্ষা।
যুগ সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতি পরীক্ষার ছুটিতে ৩/৪ দিন ব্যাপি ইংরেজি কোর্সের বিশেষ আয়োজন।
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা ও মসজিদ-এ বাইতুল মতীন- (আল্লামা শাহ্ আব্দুল মতীন কমপ্লেক্স) এর প্রকল্পসমূহ:
হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেবের নেতৃত্বে মাদরাসা মারকাযুল ইহসান দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা এই মাদরাসাকে উত্তরোত্তর সাফল্য দান করুন এবং অসংখ্য তালিবে ইলমকে দ্বীনের খাদেম হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমীন।