বিপদ-রহমত মানুষের জীবনে অনিবার্য বাস্তবতা। দুনিয়ার জীবন মূলত পরীক্ষার ময়দান-এখানে যেমন সুখ আছে, তেমনি দুঃখও আছে; যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি সংকটও রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক বিপদ এক রকম নয়। হযরত বলেন, বিপদ মূলত দুই ধরনের-একটি রহমত স্বরূপ, অন্যটি আযাব বা গযব স্বরূপ।
বিপদ-রহমত না আযাব? একটি আত্মসমালোচনার মানদণ্ড
বিপদ-আপদ মানুষের জীবনে অনিবার্য বাস্তবতা। দুনিয়ার জীবন মূলত পরীক্ষার ময়দান-এখানে যেমন সুখ আছে, তেমনি দুঃখও আছে; যেমন স্বস্তি আছে, তেমনি সংকটও রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক বিপদ এক রকম নয়। হযরত বলেন, বিপদ মূলত দুই ধরনের-একটি রহমত স্বরূপ, অন্যটি আযাব বা গযব স্বরূপ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
“وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ…”
অর্থাৎ, “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছুটা ভয়-ভীতি ইত্যাদির মাধ্যমে পরীক্ষা করব।” (সূরা-বাকারা)
অতএব, বিপদ আসা মানেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি-এ ধারণা সঠিক নয়। বরং এটি এক প্রকার ইলাহী পরীক্ষা। এখন প্রশ্ন হলো-কীভাবে বোঝা যাবে, এই বিপদ আমার জন্য রহমত, না আযাব?
যদি দেখা যায়, বিপদে পড়ে মানুষ আল্লাহ তাআলা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে; নামাজ-ইবাদতে গাফেল হয়ে পড়ছে; দ্বীনি দায়িত্ব অবহেলা করছে; জীবন হয়ে উঠছে লাগামহীন ও বেপরোয়া; নিজের ভুল-ত্রুটির দিকে দৃষ্টি না দিয়ে বরং আল্লাহর ফয়সালার ওপর আপত্তিকর মন্তব্য করছে-তাহলে বুঝতে হবে, এ বিপদ তার জন্য সতর্কবার্তা, এমনকি আযাবের রূপ ধারণ করেছে। কারণ এই বিপদ তাকে সংশোধনের পথে না এনে আরও গোমরাহির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পক্ষান্তরে, যদি কোনো বান্দা বিপদে পড়ে আল্লাহর দিকে আরও বেশি ধাবিত হয়; তাহাজ্জুদের সিজদায় অশ্রু ঝরায়; নিজের গুনাহ ও ত্রুটির জন্য তওবার তাওফীক লাভ করে; ধৈর্য (সবর) অবলম্বন করে এবং বিদ্যমান অসংখ্য নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করে-তাহলে এ বিপদ তার জন্য রহমত স্বরূপ। কারণ এই কষ্ট তাকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে এগিয়ে দেয়, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করে।
হযরত বলেন, বিপদের মুহূর্তে বান্দার করণীয় হলো-অভিযোগ নয়, ইস্তিগফার; হতাশা নয়, দোয়া; অস্থিরতা নয়, সিজদা। অন্তত দু’চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করে একান্তভাবে আল্লাহর দরবারে আরজি পেশ করা, চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলা-
“হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই। আপনি-ই যথেষ্ট, আপনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।”
বিপদে যে আল্লাহকে পায়, তার জন্য সে বিপদই সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আর যে বিপদে আল্লাহকে হারায়, তার জন্য দুনিয়ার আর কোনো স্বস্তিই প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রতিটি বিপদকে রহমতে রূপান্তরিত করার তাওফীক দান করুন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের সৌভাগ্য নসিব করুন। আমীন।
-হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব (দামাত বারাকাতুহুম)
লেখক
Admin
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান এর ইসলামিক প্রবন্ধ ও শিক্ষামূলক লেখনীর অবদানকারী।
