মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা
Islamic

োহবত যেন এক আলোর মশাল

মুহাম্মদ আশেকে এলাহী
জীবনের সরল পথে আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত যেন এক আলোর মশাল। কোনো আল্লাহ ওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মূল উদ্দেশ্য একটাই—আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া, তাঁর নৈকট্য লাভ করা, এবং আত্মাকে পবিত্র করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহর ওলীরা নিজে আল্লাহমুখী হন এবং তাঁদের সোহবত মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে।
জীবনের সরল পথে আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত যেন এক আলোর মশাল। কোনো আল্লাহ ওয়ালার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মূল উদ্দেশ্য একটাই—আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া, তাঁর নৈকট্য লাভ করা, এবং আত্মাকে পবিত্র করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহর ওলীরা নিজে আল্লাহমুখী হন এবং তাঁদের সোহবত মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর নসিহত: হযরত থানভী রহ. বলতেন, “নিজের দ্বীনি মুরব্বী বা শায়েখের নিকট নিজের অবস্থা বিস্তারিত খুলে বলতে হয়।” যেমন একজন রোগী প্রথমে ডাক্তারকে তার বয়স, ওজন, রোগের লক্ষণ ইত্যাদি বিস্তারিত জানায়, তেমনি আমাদের আত্মিক রোগ নিরাময়ের জন্যও দ্বীনি মুরব্বীর নিকট আমাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। আমাদের দোষত্রুটি, কুমতলব, আত্মার কালিমা—সবকিছু তাঁর কাছে খুলে বলতে হবে, যাতে তিনি আমাদের জন্য সঠিক পথনির্দেশনা দিতে পারেন। দ্বীনি মুরব্বীর প্রতি চারটি হক: ১. ইত্তিলা’ (অবগত করানো): নিজের অবস্থা সম্পর্কে শায়েখ বা মুরব্বীকে পুরোপুরি জানানো। কোনো কিছু গোপন না রেখে নিজের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, সমস্যা, এবং দুর্বলতাগুলো তার সামনে খুলে ধরতে হবে। এটি আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ। ২. ইত্তিবা’ (অনুসরণ): শায়েখের নির্দেশনা ও পরামর্শকে নিঃশর্তভাবে মেনে চলা। তার দিকনির্দেশনা আমাদের জ্ঞান ও বোধগম্যতার ঊর্ধ্বে হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি। ৩. ই'তিমাদ (আস্থা ও ভক্তি): নিজের শায়েখের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও গভীর ভক্তি রাখা। বিশ্বাস রাখতে হবে যে তাঁর পরামর্শ এবং নির্দেশনা কেবল আমাদের কল্যাণের জন্যই। এই আস্থা এবং ভালোবাসা ছাড়া আত্মশুদ্ধির পথ সুগম হয় না। ৪. ইনকিয়াদ (অর্পণ): নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে শায়েখের সিদ্ধান্তের ওপর সমর্পণ করা। একজন সৎ ও যোগ্য আল্লাহ ওয়ালার নির্দেশনার প্রতি নিজেকে ন্যস্ত করা মানেই নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। আমাদের অন্তরের কালিমা, যেমন কুধারণা, কুদৃষ্টি, কুসম্পর্ক, অহংকার, হিংসা—এসব আত্মার মারাত্মক ব্যাধি। এগুলো আমাদের অন্তরকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে একজন কামেল শায়েখের সান্নিধ্য অপরিহার্য। একমাত্র আল্লাহওয়ালা মুরব্বীর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর প্রিয় হতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তাই, আমাদের উচিত দ্বীনি মুরব্বীর সোহবতে থেকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন একজন কামেল শায়েখের সোহবত দান করুন, যিনি আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে গড়ে তুলবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করুন, আত্মার রোগ থেকে মুক্ত করুন, এবং তাঁর প্রিয় ওলীদের সান্নিধ্য দান করুন। আমিন। ২৬ জানুয়ারী ২০২৫ -হযরত মাওলানা তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর মজলিস থেকে শ্রুতি লেখন; -মুহাম্মদ আশেকে এলাহী মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা ৬নং শহীদ ফারুক সড়ক, পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, ঢাকা