মানুষের সংসার জীবনে অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো সন্দেহ ও অবিশ্বাস।
কোনো সময় কোনো আচরণ কিংবা ঘটনার মাধ্যমে সন্দেহ জন্মাতে পারে, কিন্তু যদি সেই সন্দেহকে হৃদয়ের গভীরে আসন গেঁড়ে রাখতে দেওয়া হয়, তবে তা ধীরে ধীরে অশান্তিকে আমন্ত্রণ জানায়।
#সুখময়_দাম্পত্য_জীবনের_সোনালী_রহস্য
আমাদের প্রিয় ও পরম শ্রদ্ধেয় শায়েখ, হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম প্রায়ই দাম্পত্য জীবনের শান্তি ও প্রশান্তি সম্পর্কে এমন সব উপদেশ দেন, যা কেবল হৃদয়কে স্পর্শই করে না, বরং জীবনের গতিপথকেও আলোকিত করে তোলে।
হযরত ওয়ালা (দা.বা.) বলেন-
মানুষের সংসার জীবনে অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো সন্দেহ ও অবিশ্বাস।
কোনো সময় কোনো আচরণ কিংবা ঘটনার মাধ্যমে সন্দেহ জন্মাতে পারে, কিন্তু যদি সেই সন্দেহকে হৃদয়ের গভীরে আসন গেঁড়ে রাখতে দেওয়া হয়, তবে তা ধীরে ধীরে অশান্তিকে আমন্ত্রণ জানায়।
এ কারণে বিবাহের পূর্বেই নারী-পুরুষের উচিত নিজেদের হৃদয়কে যাচাই করে নেওয়া।
তারা কি একে অপরকে ক্ষমা করতে প্রস্তুত?
তারা কি একে অপরকে সীমাহীন ভালোবাসতে পারবে?
তারা কি একে অপরের হাত ধরে সহযোগিতার পথে চলতে রাজি?
তারা কি একে অপরের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে পারবে?
হযরত ওয়ালা বলেন-এ চারটি গুণ নিজের মধ্যে তৈরি না হলে প্রকৃত অর্থেই দাম্পত্য জীবনের সফরের জন্য কেউ প্রস্তুত নয়।
#জীবনের_সফর_ও_দাম্পত্য_সঙ্গী
জীবন এক অন্তহীন যাত্রা। সেই চলমান গাড়িতে হঠাৎ একসময় কোনো নারী বা পুরুষের জীবনে ২০–২৫ বছরের মধ্যে একজন সহযাত্রী এসে যোগ দেন-তিনি হলেন তার জীবনসঙ্গী।
কিন্তু এ সফর চিরস্থায়ী নয়। কবর নামক চূড়ান্ত স্টেশনে গিয়ে দুজনকেই একদিন নামতেই হবে। কেউ আগে নামবে, কেউ পরে।
হযরত ওয়ালা (দা.বা.) বড় আবেগঘন কণ্ঠে বলেন-
“এ কয়েক দিনের সফর যদি সদাচরণ, সহযোগিতা ও ভালোবাসায় ভরপুর হয়, তবে প্রতিটি রাতই হবে যেন নবদম্পতির প্রথম রাতের মতো মধুময়। প্রতিটি ভোর হবে নতুন আনন্দ ও প্রশান্তির দূত।”
#ঘরের_মানুষ_ও_বাইরের_মানুষ
আমরা বাইরে অপরিচিত মানুষদের সামনে নিজেদের ভদ্রতা ও সৌজন্য প্রদর্শন করি।
এক কাপ চা কিংবা ২০ টাকার সমুচা-পেয়াজু খেয়ে “থ্যাংক ইউ” ও “ধন্যবাদ” বলি বারবার। খাবার পরিবেশনকারীকে হাসিমুখে ১০–২০ টাকার বখশিশ দিতেও কার্পণ্য করি না।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-যে মানুষগুলো প্রতিদিন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেশি সেবা করে, যারা আমাদের সুখ-দুঃখের সাথী, সেই মা কিংবা স্ত্রী কোনোদিন পেল না সামান্য বখশিশ, পেল না হাদিয়া, পেল না ভালোবাসা ভরা একটি মিষ্টি হাসি কিংবা কৃতজ্ঞতার উষ্ণ চাহনি।
এ অন্যায়ের বোঝা শুধু সংসারের অশান্তিকেই বাড়ায় না, বরং আল্লাহর নিকটেও অপছন্দনীয় হয়ে ওঠে।
দাম্পত্য জীবন আসলে একটি মহান ইবাদত। এর প্রতিটি মুহূর্তে যদি ভালোবাসা, সহযোগিতা, আস্থা এবং ক্ষমার সুবাস ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সংসার হয়ে ওঠে জান্নাতের বাগান। আর যদি সন্দেহ, অবিশ্বাস ও তিক্ততা জায়গা করে নেয়, তবে সেই সংসারই হয়ে ওঠে দুঃখের কারাগার।
হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর এ আলোচনাগুলো আমাদের শিখিয়ে দেয়-
সুখী পরিবার গড়তে শুধু বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা, কৃতজ্ঞতা ও সুন্দর আচার-আচরণ।
আর যখন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এ পথে অগ্রসর হয়, তখন তাদের জীবন হয়ে ওঠে আধ্যাত্মিক প্রশান্তির এক মহাসফর।
--মুহাম্মাদ আশেকে এলাহী
লেখক
--মুহাম্মাদ আশেকে এলাহী
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান এর ইসলামিক প্রবন্ধ ও শিক্ষামূলক লেখনীর অবদানকারী।
