মাদরাসা মারকাযুল ইহসান ঢাকা
Islamic

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপরূপ সৌন্দর্য

Admin
মানুষের হৃদয় মানুষেই মুগ্ধ হয়—কখনো তার রূপ দেখে, কখনো তার আচার-ব্যবহার দেখে, আবার কখনো তার দানশীলতা ও উদারতায় বিমোহিত হয়ে পড়ে। কিন্তু বলুন তো, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে এ গুণাবলীর পূর্ণ সমাহার আর কারো মধ্যে পাওয়া যায়? তিনি তো সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক, চরিত্রের উৎকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত, দানশীলতায় অদ্বিতীয়, আর বিনয়ে অতুলনীয়।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপরূপ সৌন্দর্য মানুষের হৃদয় মানুষেই মুগ্ধ হয়—কখনো তার রূপ দেখে, কখনো তার আচার-ব্যবহার দেখে, আবার কখনো তার দানশীলতা ও উদারতায় বিমোহিত হয়ে পড়ে। কিন্তু বলুন তো, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে এ গুণাবলীর পূর্ণ সমাহার আর কারো মধ্যে পাওয়া যায়? তিনি তো সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক, চরিত্রের উৎকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত, দানশীলতায় অদ্বিতীয়, আর বিনয়ে অতুলনীয়। তাই কবি বড় সত্যই বলেছেন- محمد حامد مدح خدا بس خدا مدح محمد مصطفی بس অর্থাৎ, “প্রিয় নবীজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করার জন্যই যথেষ্ট, আর আল্লাহ নিজেই মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করেছেন, সেটাই যথেষ্ট।” আমরা যতই কলম চালাই, যতই সাহিত্য রচনা করি, নবীজির হক্ব কখনোই আদায় করতে পারবো না। তাঁর প্রশংসা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে। দুনিয়ার ইতিহাসে প্রসিদ্ধ সৌন্দর্যের মুকুটধারী হলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। মিশরের নারীরা তাঁর মুখখানি দেখে মুগ্ধ হয়ে ছুরি হাতে নিজের আঙুল কেটে ফেলেছিলেন। অথচ বাস্তবতা হলো-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৌন্দর্য হযরত ইউসুফ আ.-এর সৌন্দর্যের চেয়ে বহুগুণ, অসীমগুণ অধিক। পার্থক্য শুধু একটাই-আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহর সৌন্দর্যের উপর এক আসমানি আবরণ টেনে রেখেছিলেন। কেননা, যদি সেই সৌন্দর্য পুরোপুরি প্রকাশ পেতো, তাহলে পৃথিবীর শৃঙ্খলা ভেঙে যেতো; মানুষ তো মানুষ, গোটা দুনিয়ার প্রাণীকুলই তার আকর্ষণে দিশাহারা হয়ে যেতো। আমাদের আম্মিজান, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন- “একজন যুবকের জন্য যুবতীদের আকৃষ্ট হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার নবীজি এমন ছিলেন যে, শুধু যুবতীরা নয়, বৃদ্ধ কিংবা যুবক, ছোটো বা বড়-সবাই তাঁর প্রেমে মশগুল ছিলো। শুধু মানুষই নয়, গাছগাছালি, পশুপাখি, এমনকি জড়বস্তুও তাঁর সৌন্দর্য ও মহব্বতে মুগ্ধ হয়ে যেতো।” তিনি ছিলেন পূর্ণিমার চাঁদ থেকেও দীপ্তিময়, সূর্যের আলো থেকেও উজ্জ্বল। যারা তাঁকে এক নজর দেখেছে, তাদের চোখে আর কোনো সৌন্দর্যের কদর অবশিষ্ট থাকেনি। সৌন্দর্য, মহব্বত, দানশীলতা, বিনয়-যত গুণাবলী মানুষকে মহান করে তোলে, সবই একত্র হয়েছিলো আমাদের প্রিয় নবীজির মধ্যে। তাইতো তিনি শুধু একজন নবী নন, তিনি হলেন দুনিয়ার রাহবার, আখিরাতের শাফি, সমগ্র সৃষ্টি জগতের প্রাণ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূপ বর্ণনার প্রতিটি শব্দ, তাঁর চরিত্রের প্রতিটি প্রশংসা শেষমেশ আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে। কেননা, তিনি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আর তাঁর সৌন্দর্যের দীপ্তি আসলে আল্লাহরই নূরের প্রতিফলন। আম্মিজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর সৌন্দর্যের বর্ণনা করতে গিয়ে এমন কবিতা আবৃত্তি করেছেন- لنــا شمــس و لــلآفــاق شـمــس و شمسي أفضل من شمس السماء فــإن الشــمــس تطلــع بعــد فجــــرٍ و شمســـي طالــعٌ بــعـــد العشـــاء. অর্থাৎ- “হে মহাবিশ্ব! তোমারও একটি সূর্য আছে, আর আমি আয়েশারও একটি সূর্য আছে। কিন্তু আমার সূর্য আকাশের সূর্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। কেননা, আকাশের সূর্য ভোরের পরে উদিত হয়, আর আমার সূর্য (আমার প্রিয় নবী) এশার পর আমার ঘরে উদিত হন।” আমার একটা সূর্য আছে আরেক সূর্য আকাশে, আমার সূর্যের সামনে সেটা লাগে কেমন ফ্যাকাশে! ওটার আলো যায় নিভে যায় রাতের কালো চাদরে, আমার সূর্য আলো বিলায় নিকষ কালো আঁধারে৷ — আম্মাজান আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তিনি আরও বলেন- “যখনই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ছোট্ট কুঠিরে প্রবেশ করতেন, তখনই সেটি নূরের ঝলকানিতে ভরে যেতো, চারদিক আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠতো।” সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! -হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম-এর পবিত্র হৃদয় থেকে ঝরে পড়া অমূল্য বাণীগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি — মুহাম্মদ আশেকে এলাহী