িক্ষা জাতির মেরুদণ্ড-এই স্লোগানের আড়ালে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে পৌঁছেছে, তা আমাদের সবারই জানা। শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা আর অজানা কিছু নয়।
#আধুনিক_শিক্ষাব্যবস্থার_ত্রুটি-বিচ্যুতি
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড-এই স্লোগানের আড়ালে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে পৌঁছেছে, তা আমাদের সবারই জানা। শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা আর অজানা কিছু নয়।
আমরা কি সত্যিই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি-আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ যে এখানে কেউ পাঁচ বছর পড়লে, বা উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলে, সে নিশ্চিতভাবে একজন মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠবে?
সে কি নামাজি হবে?
পরহেজগার হবে?
পরোপকারী হবে?
মা-বাবার বাধ্য ও নেককার সন্তান হবে?
হালাল রিজিক গ্রহণকারী হবে?
পর্দানশীন নারী কিংবা পর্দাশীল পুরুষ হবে?
এর কোনো গ্যারান্টি নেই। বরং বাস্তবতা এর বিপরীত-ঘরে ঘরে, বাড়িতে বাড়িতে তার স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়।
এর কারণ হলো-এই শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে এত ত্রুটি ও ঘাটতি রয়ে গেছে যে, এটি মানুষকে কেবল জাগতিক শিক্ষা দেয়। শেখায় কীভাবে বাঁচতে হয়, কীভাবে রোজগার করতে হয়, বড়লোক হতে হয়, অর্থ উপার্জন করতে হয়। এর বাইরে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
বাড়ি করো, ঘর করো, বিমান বানানোর স্বপ্ন দেখো-পারো আর না পারো-এই নিয়েই জীবন শেষ।
খুব ভালোভাবে মনে রাখবেন, যদি এই জাগতিক চিন্তা ও শিক্ষাই যথেষ্ট হতো, তাহলে আল্লাহ তাআলা কোনো নবী-রাসুল পৃথিবীতে পাঠাতেন না।
যদি শুধু দুনিয়ায় বেঁচে থাকার ইলমই যথেষ্ট হতো, তাহলে আসমানি ইলম নাজিল হতো না।
#আসমানি_শিক্ষার_প্রয়োজনীয়তা
শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা তাক্বী উসমানী সাহেব (দা.বা.) বলেন-
আল্লাহ তাআলা মানুষকে কতটুকু জ্ঞান ও বিবেকের ধারণক্ষমতা দিয়েছেন, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। মানুষের এই ‘নেটওয়ার্ক’ নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই কাজ করে; এরপর আর এগোয় না। অথচ মানুষের পথ খুব দীর্ঘ-গন্তব্য অনেক দূরে।
সেই গন্তব্যে পৌঁছার জন্য মানুষের কাছে কোনো সোপান নেই, কোনো সামান নেই, কোনো মাধ্যম নেই। সেই অন্ধকার ও অস্পষ্ট পথের ইলম আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সাধারণ জ্ঞানের মধ্যে রাখেননি।
বরং সেই অন্ধকার পথে আলো জ্বালানোর জন্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন, কুরআন ও হাদীস নাজিল করেছেন।
এ পথ এমন নয় যে শুধু পঞ্চাশ-ষাট বছর পরের বিষয়। আজকের দিনেও এমন অসংখ্য বিষয় আছে, যা আমাদের ব্রেইনে ধরবে না, বিজ্ঞানও সাপোর্ট করবে না।
মানুষের হক খাওয়া হারাম-এই ‘হারাম’ শব্দটি কি জেনারেল শিক্ষার ভাষা, না ইসলামি শিক্ষার ভাষা?
নিশ্চয়ই ইসলামি শিক্ষার।
এই শব্দটাই যদি না থাকে, তাহলে পরের হক খাওয়াকে কী বলবেন?
বলবেন-অন্যায়, অনুচিত। সর্বোচ্চ এটুকুই।
কিন্তু অন্যায় করলে কী হয়?
জাহান্নামে যেতে হয়-এই কথা তো ইসলামি কথা হয়ে গেল!
জেনারেল শিক্ষা এটা বলবে না।
#আল্লাহর_ভয়ই_মানুষকে_অন্যায়_থেকে_রক্ষা_করে
জেনারেল শিক্ষায় বলা হবে-ধরা খেলে মামলা হবে, জেলে যেতে হবে, দুদক ধরবে, গোয়েন্দা ধরবে।
বলুন তো, এই দেশে অপরাধ করে জেল থেকে বাঁচার ব্যবস্থা আছে কি নেই? আছে।
কিন্তু জাহান্নাম থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থা আছে? নেই।
হয় ক্ষমা নিতে হবে, না হয় জাহান্নামে যেতে হবে। সেখানে কোনো দুর্নীতি চলে না।
এখানে কেউ খুন করে আইনজীবীর কাছে গিয়ে বলতে পারে-
“স্যার, খুন করেছি ঠিকই। এখন যেভাবে পারেন বাঁচান।”
এই ব্যবস্থা দুনিয়াতে আছে।
কিন্তু আখিরাতে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই-
জিবরাইল (আ.)-কে ম্যানেজ করা, মুনকার-নাকিরকে বোঝানো, মামু-খালু দিয়ে সুপারিশ করানো-কিছুই চলবে না।
কারণ জেনারেল শিক্ষার শাস্তির হাতিয়ার শুধু জেল, জরিমানা, ফাঁসি। আর এগুলো থেকে বাঁচার হাতিয়ারও আছে-টাকা, ক্ষমতা, প্রভাব।
কিন্তু যখন মানুষের ভেতর আখিরাতমুখিতা উঠে যায়, তখন বাকি থাকে শুধু দুনিয়া।
ফাইল ঠিক করো, কাগজ ঠিক করো—সব ঠিক।
অথচ যখন মানুষের বিশ্বাস হয়-
جو کرتا ہے تو چھپکے اہلِ جہاں سے
کوئی دیکھتا ہے تجھے آسمان سے
যা কিছুই তুমি করো, দুনিয়ার মানুষ থেকে লুকিয়ে করো,
আসমানের মালিক কিন্তু দেখছেন-তখন মানুষ থামে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
اَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللّٰهَ يَرٰى
সে কি জানে না যে আল্লাহ তাকে দেখছেন?
এই জায়গাটা কন্ট্রোল করার ব্যবস্থা কেবল দ্বীনের মধ্যেই আছে।
#মৃত্যু_শেষ নয়,_ইন্তিকাল
মানুষকে মানুষ বানায় আল্লাহর দ্বীন।
এই সমাজে যতটুকু সুন্দর ব্যবস্থা এখনো টিকে আছে, তা দ্বীনের কারণেই।
যেখানে দ্বীন নেই, সেখানে মানুষ মানুষ থাকে না—শেয়াল ও কুকুর থেকেও নিকৃষ্ট হয়ে যায়।
কারণ তাদের কাছে একটাই হাতিয়ার—দুনিয়ার আইন-আদালত। সেটাকে ম্যানেজ করতে পারলেই সব শেষ।
তারা মনে করে, মৃত্যু মানেই শেষ।
কিন্তু আমাদের মৃত্যু কি শেষ? না কি ইন্তিকাল?
ইন্তিকাল অর্থ-স্থান পরিবর্তন।
এক জেলখানা থেকে আরেক জেলখানায় যাওয়া মুক্তি নয়।
মৃত্যু শেষ নয়-মৃত্যু মানে স্থানান্তর।
এরপর শুরু হবে জিজ্ঞাসাবাদ।
সারাজীবনের আমলের সংক্ষিপ্ত রেজাল্ট দেওয়া হবে।
সেই জায়গার নাম-কবরজগৎ।
--হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম-এর বয়ান থেকে সংগৃহীত
লেখক
Admin
মাদরাসা মারকাযুল ইহসান এর ইসলামিক প্রবন্ধ ও শিক্ষামূলক লেখনীর অবদানকারী।
